× হোম দেশির খবর অনুষ্ঠান-কর্মসূচী-উদযাপন দেশের খবর দশদিক দুনিয়া দশকথা ভিডিও সব ছবি ভিডিও আর্কাইভ

রেমিটেন্সের পালে মৌসুমী হাওয়া

রুদ্র মাসুদ-

০৭ মার্চ ২০২৫ ২৩:১২ পিএম । আপডেট: ১০ মার্চ ২০২৫ ০০:৩৮ এএম

দেশে টাকা পাঠাতে মানি একচেঞ্জে প্রবাসীদের ভীড়। ছবিটি নিউইর্য়ক সিটির ওজনপার্কের এ্যাংকর ট্রাভেলস থেকে তোলা। ছবি-দেশি খবর।

রমজান এসেছে, দেশে পরিবার-পরিজন ও  আত্মীয় স্বজন রয়েছেন। তাছাড়া গরীব দুঃখীদের জন্যও দেখভাল করতে হয়। এটা জরুরী দায়িত্ব, সেজন্যই টাকা পাঠাচ্ছি। যাতে তারা রমজান সুন্দরভাবে পালন করতে পারেএ সেজন্য শুভকামনা রইলে, একইসাথে ঈদের জন্য অগ্রিম শুভকামনা। উৎসাহ নিয়ে কথাগুলো বলছিলেন সুনামগঞ্জ সদরের বাসিন্দা মিসবাহুর রহমান। নিউইয়র্ক সিটির ওজনপার্কে সোনালী এক্সচেঞ্জে কথা হয় তাঁর সাথে।

প্রতিবছর রমজান একবার আসে। রমজানে প্রবাসী স্বজনদের দিকে তাকিয়ে থাকেন দেশে থাকা পরিবারের সদস্যরা। যাতে ভালোভাবে রমজান পালন করতে পারে সেজন্য টাকা পাঠাচ্ছি দেশে। কারণ, ইফতারসহ নানান খরছ রয়েছে রমজানে। দেশে থাকা স্বজনদের প্রতি গভীর মমত্ববোধ ধ্বণিত হয় এ্যাংকর ট্রাভেলস্ থেকে টাকা পাঠাতে আসা প্রবীন প্রবাসী সাঈদ আহম্মেদের কন্ঠে। 

নিউইয়র্ক সিটির ওজনপার্ক এখন দ্রুত বর্ধিষ্ণু বাংলাদেশী কমিউনিটি। প্রতিনিয়ত এখানে বাড়ছে ব্যাবসার পরিসর। বাংলাদেশী সবগুলো মানি এক্সচেঞ্জ কোম্পানী এবং কোম্পানীর এজেন্ট রয়েছে এখানে। রমজানকে ঘিরে রেমিটেন্স পাঠাতে আসা প্রবাসীদের কোলাহলে মুখরিত এখন মানি এক্সচেঞ্জগুলো। কোথাও কোথাও গ্রাহকদের লাইনও চোখে পড়েছে। জ্যাকসন হাইটস্, জামাইকা, চার্চ-ম্যাকডোনাল্ড, ফুলটন, ইস্ট নিউইয়র্ক (ইউক্লিড), পার্কচেষ্টারসহ নিউইয়র্ক সিটির বাংলাদেশী অধ্যুষিত এলাকাগুলোর মানি এক্সেচেঞ্জেও ব্যাস্ততা রয়েছে। এদিকে গ্রাহকদের আকৃষ্ট করতে মানি এক্সেচঞ্জগুলোতে ড্র'র মাধ্যমে আকর্ষনীয় পুরস্কার ঘোষণা দিতেও দেখা গেছে।

সাধারণত প্রতিমাসের প্রথম দিকে দেশে পরিবারের খরছের টাকা পাঠিয়ে থাকেন প্রবাসীরা, তারওপর রমজান। রমজানের পরিবারের জন্য খরছের পাশাপাশি সহায় সম্বলহীন মানুষের জন্য আর্থিক সহায়তা প্রদান, যাকাত এবং ধর্মীয় প্রতিষ্ঠানে খরছ পাঠিয়ে থাকেন প্রবাসীরা। এই খরছ ফেব্রুযারির শেষ সাপ্তাহ থেকেই পাঠানো শুরু হয়েছে এবার। তাই; মৌসুমী হাওয়া লেগেছে রেমিটেন্স প্রেরণে। মানি এক্সচেঞ্জগুলো বলছে ঈদকে সামনে রেখে রেমিটেন্স প্রেরণের প্রবাহ আরো বৃদ্ধি পাবে। 

তবুও, কোথায় যেনো শূণ্যতা। রমজানের এই ব্যাস্ততার মাঝেও বড়ধরণের ঘাটতি দেখা গেছে মানি এক্সচেঞ্জগুলোতে। কাঙ্খিত রেমিটেন্স যাচ্ছেনা এমন মন্তব্য প্রায় সবার। প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প দ্বিতীয় মেয়াদে দায়িত্বগ্রহণের পর কাগজপত্রহীনদের ধরপাকড়ের কারণে অনেকে কাজ হারিয়েছেন, অনিশ্চয়তায় দিন কাটাচ্ছেন কেউ কেউ। যার প্রভাব পড়েছে রেমিটেন্স প্রবাহে- এমনটি স্বীকার করছেন একাধিক মানি একচেঞ্জ কোম্পানীর প্রধান নির্বাহী ও মানি এক্সচেঞ্জ এজেন্ট।

কাজের বৈধ অনুমতিপত্র বা ওয়ার্ক পারমিট না থাকায় এই মুহুর্তে কাজ করাও ঝুঁকিপূর্ণ। নিয়োগদাতারাও ঝামেলা এড়াতে এমন অভিবাসীদের নিয়োগ দিয়ে ঝুঁকি নিতে চান না। তারওপর পথে পথে জিজ্ঞাসাবাদ কিংবা তল্লাশীর ঝুঁকি রয়েছে বলে জানিয়েছেন একাধিকজন। আয়-রোজগারের এই পরিস্থিতির দেখা মিলেছে রেমিটেন্সে প্রবাহে।

বাংলাদেশ ব্যাংক সূত্রে জানা যায়, জানুয়ারির মতো ফেব্রয়ারিতেও রেমিটেন্স প্রেরণে শীর্ষে ছিলো যুক্তরাষ্ট্র প্রবাসীরা। বৈধপথে যুক্তরাষ্ট্র থেকে প্রবাসীরা ফ্রেব্রুয়ারিতে ৪৯১ দশমিক ২৬ মিলিয়ন ডলার প্রেরণ করেন দেশে। জানুয়ারিতে যুক্তরাষ্ট্র থেকে ৪০৭ দশমিক ৫২ মিলিয়ন ডলার রেমিটেন্স প্রেরণ করেন প্রবাসীরা। ঈদের মওসুম হওয়ায় মার্চে রেমিটেন্স আরো বাড়ার আভাস মিলেছে নিউইয়র্কের মানি এক্সচেঞ্জ মালিকদের সাথে কথা বলে।

ওজন পার্কের এ্যাংকর ট্রাভেলস্’র সিইও এএসএম মাইন উদ্দিন পিন্টু দেশি খবরের সাথে আলাপকালে বলেন- সাধারণ সমযের তুলনায় রমজানের শুরুতে রেমিটেন্স প্রবাহ বেশী থাকে। দেশে ইফতার আয়োজনের জন্য প্রবাসীরা তখন টাকা পাঠায়। মধ্য রমজানে রেমিটেন্সের মূল প্রবাহটা দৃশ্যমান হবে এবং আরো বাড়বে বলে তিনি আশাবাদ ব্যাক্ত করেন।

বাংলাদেশী মালিকানাধীন মানি ট্রান্সফার কোম্পানী সানম্যান গ্লোবাল এক্সপ্রেস কর্পোশেনের সিইও মাসুদ রানা তপন দেশি খবরকে জানান- রমজানকে ঘিরে ইফতার, যাকাত, ফিতরাসহ পরিবারের খরছের জন্য যথারীতি প্রবাসীরা রেমিটেন্স পাঠিয়ে থাকেন। সেই ধারাবাহিকতায় এবারা রেমিটেন্স যাচ্ছে। সেজন্য রেমিটেন্স প্রবাহ ভালো। তবে, গতবছরের তুলনায় কিছুটা কম মনে হচ্ছে। বৈধ কাগজপত্রহীন প্রবাসীদের কিছুটা ভয়ভীতি আছে। তাই ইনকামও কমেছে এবং তারা কম চলাচল করতেছেন। ঈদ নাগাদ রেমিটেন্স প্রবাহ বাড়বে।

একইকথা ধ্বণিত হয়েছে রাষ্ট্রায়ত্ব সোনালী এক্সচেঞ্জের সিইও মহসিন কবিরের কন্ঠেও। তাঁরমতে ঈদ নাগাদ রেমিটেন্স প্রবাহ আরো বৃদ্ধি পাবে। তিনি বৈধপথে দেশে রেমিটেন্স প্রেরণে প্রবাসীদের প্রতি আহবান জানান। 


Deshi Khobor

সম্পাদক : মাহমুদুল হাসান (রুদ্র মাসুদ)

ঠিকানাঃ ৮৬-৩২ ১০২ এভিনিউ, ওজন পার্ক, দ্বিতীয় তলা, নিউ ইয়র্ক, এনওয়াই-১১৪১৬, ইউএসএ

© 2025 Deshi Khobor All Rights Reserved. Developed By Root Soft Bangladesh.